
অর্থসচিব পদে মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে পুনরায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সোমবার জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে উল্লেখ করা হয়, তার অবসরোত্তর ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা স্থগিতের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো। এই নিয়োগের আওতায় তাকে অন্য সব পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার ছিল খায়েরুজ্জামান মজুমদারের শেষ কর্মদিবস। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তিনি নতুন করে অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম শুরু করবেন। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট থেকে তিনি দেশের অর্থসচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি নতুন করে অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
খায়েরুজ্জামান মজুমদার পেশাগত জীবনে ১১তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৩ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। তিনি সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। এরও আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, তিনি আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি—তিন ভিন্ন সরকারের আমলেই অর্থসচিবের পদ সামলেছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তৎকালীন অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিলে খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। খায়েরুজ্জামান মজুমদারের আগের অর্থসচিব ছিলেন ফাতিমা ইয়াসমিন, যিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়ে চলে যান ২০২৩ সালের আগস্টে।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় ১ম স্থান এবং এমএসএস পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ২য় স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
